ইরানি বাহিনীর বাধায় ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি
হরমুজ পার হতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ১২:১৬:৫০ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
ইরান কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে আটকে গেল বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিএসসির এই জাহাজটি প্রণালিতে প্রবেশ করার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বাধার মুখে পড়ে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও জাহাজটি ওমান সাগরে বের হতে না পেরে আবারও পারস্য উপসাগরের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেলে ইরান সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এই খবরের পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা কয়েক শ জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। এই সারির শুরুর দিকেই ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম ভোররাত ৩টার দিকে এটি প্রণালি পার হয়ে ওমান সাগরে প্রবেশ করবে। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইরানি নৌবাহিনী ও আইআরজিসি রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, আইআরজিসির বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ এই প্রণালি পার হতে পারবে না।’
তিনি এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর অনুমতি চেয়ে কোনো নেতিবাচক বার্তা না পাওয়ায় সবাই ভেবেছিল পথটি উন্মুক্ত। জয়যাত্রার সঙ্গে প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এগিয়ে যাচ্ছিল, যাদের সবাইকে একইভাবে আটকে দেয়া হয়েছে।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু ইরানের বাহিনী অনুমতি দেয়নি। ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা এখন আগের জায়গায় (পারস্য উপসাগরে) ফেরত যাচ্ছি।’
গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটিতে বর্তমানে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে লোড করা প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নিয়ে যাওয়ার কথা। এর আগে গত ১১ মার্চ এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৮ এপ্রিল—দুই দফায় জাহাজটি ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এটি ছিল জাহাজটির তৃতীয় দফার ব্যর্থ চেষ্টা।
জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিকরা সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তাদের মনোবল অটুট রাখতে খাবারের বরাদ্দ দৈনিক ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং বেসিকের সমপরিমাণ ‘ওয়ার অ্যালাউন্স’ দেয়া হচ্ছে। জাহাজে খাবার ও পানির পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও রেশনিং করে পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স